আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি;

বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাম্প্রতিক স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি জনসচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মজ্যোতি বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিজিবির প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকদিন আগে ঘুমধুম সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের একই পরিবারের তিন সদস্য মাইন বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী জনগণকে সচেতন ও আশ্বস্ত করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান। তিনি উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বলেন, সাম্প্রতিক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কৃষিকাজ কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনেও অপরিচিত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিশেষভাবে শূন্যরেখা ও সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ইউএনও আরও বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রিমন রুদ্র, সমাজসেবক হায়দার আলী কোম্পানি, সাবেক চেয়ারম্যান দীপক বড়ুয়া, বিজিবির প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অংশগ্রহণকারীরা সীমান্ত এলাকায় নিরাপদ চলাচল, সন্দেহজনক বস্তু দেখলে দ্রুত প্রশাসন বা বিজিবিকে অবহিত করা এবং গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের এমন জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।